টাঙ্গাইলে ৪৫ হাজার টাকায় সন্তান বিক্রি করে মায়ের শখ পূরণ, এলাকায় চাঞ্চল্য

টাঙ্গাইলে মায়ের শখ পূরণের জন্য ৪৫ হাজার টাকায় সন্তান বিক্রি: এলাকায় চাঞ্চল্য

টাঙ্গাইলে মায়ের শখ পূরণের জন্য ৪৫ হাজার টাকায় সন্তান বিক্রি: এলাকায় চাঞ্চল্য

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। মাত্র ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে চার মাসের পুত্র সন্তানকে বিক্রি করেছেন এক মা। এই অর্থ দিয়ে তিনি কিনেছেন মোবাইল ফোন, নাকফুল, পায়ের নুপুর ও নতুন পোশাক। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা তীব্র নিন্দা জানান।

ঘটনার পেছনের কাহিনী

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাবনী আক্তার নামের ওই নারী দুই বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া রবিউল ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে চার মাস আগে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান, যার নাম রাখা হয় তামিম। তবে পারিবারিক কলহের কারণে লাবনী সন্তানকে নিয়ে তার বোনের বাড়িতে চলে যান। সেখান থেকেই তিনি ৪৫ হাজার টাকায় সন্তানটিকে সিরাজগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

মায়ের স্বীকারোক্তি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

লাবনী নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি বিক্রিত অর্থ দিয়ে মোবাইল ফোন, নাকফুল, পায়ের নুপুর ও নতুন পোশাক কিনেছেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ পেয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, "মায়ের কাছে সন্তান যদি নিরাপদ না থাকে, তবে কোথায় নিরাপত্তা?"

পুলিশি হস্তক্ষেপ ও শিশুর উদ্ধার

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, "আমরা জানতে পেরেছি, মা তার সন্তানকে ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এই টাকায় তিনি বিভিন্ন সামগ্রী কিনেছেন। বর্তমানে তিনি অনুতপ্ত। আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।"

সামাজিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ

এই ঘটনা সমাজে মায়ের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, মানসিক চাপ ও সামাজিক অবক্ষয় এমন ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখে। তবে সন্তান বিক্রি করা একটি গুরুতর অপরাধ, যার জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

টাঙ্গাইলের এই ঘটনা আমাদের সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা তুলে ধরেছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সকল স্তরের সচেতনতা ও আইনি পদক্ষেপ জরুরি।

সম্পর্কিত প্রতিবেদন:


সতর্কতা: সন্তান বিক্রি বা অপহরণ একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে তথ্য থাকলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।



মন্তব্যসমূহ