ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড: মানব সভ্যতার মহাকাশে পাঠানো বার্তা

ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড: মানব সভ্যতার মহাকাশে পাঠানো বার্তা

আপনি একটি নির্জন দ্বীপে আটকা পড়েছেন। চারিদিকে অসীম জলরাশি। কোন জনমানুষ নেই। সেই নির্জনতায় হঠাৎ ঢেউয়ে ভেসে এলো একটি বোতল। বোতলের ভেতর একটি চিঠি। অজানা কারো পাঠানো বার্তা। ভাবুন তো বার্তাটি হাতে নিয়ে কতটা আগ্রহ নিয়ে পড়বেন আপনি। মহাকাশের গভীর অন্ধকারে আমাদের পাঠানো ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড যেন ঠিক তেমনি। বিশাল এই মহাজগতের কোন অজানা গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি বোতলবন্দী বার্তা।


ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড: মানব সভ্যতার মহাকাশে পাঠানো বার্তা

ভয়েজার মিশনের সূচনা

১৯৭৭ সালে, নাসা দুটি মহাকাশযান—ভয়েজার ১ ও ভয়েজার ২—মহাকাশে পাঠায়। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বৃহস্পতিসহ সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের কাছাকাছি পর্যবেক্ষণ করা। কিন্তু এই মিশনের একটি বিশেষ দিক ছিল গোল্ডেন রেকর্ড, যা মানবজাতির একটি টাইম ক্যাপসুল হিসেবে কাজ করে। এই রেকর্ডে পৃথিবীর বিভিন্ন ছবি, শব্দ, সংগীত এবং ৫৫টি ভাষায় শুভেচ্ছা বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গোল্ডেন রেকর্ডের বিষয়বস্তু

গোল্ডেন রেকর্ডে ১১৬টি ছবি রয়েছে, যা পৃথিবীর বিভিন্ন দৃশ্য, মানুষের শরীরের গঠন, প্রাণীজগৎ, উদ্ভিদ, সূর্যাস্ত, নদী, পাহাড়, শহর, গ্রাম এবং ডিএনএর গঠন প্রদর্শন করে। এছাড়াও, এতে রয়েছে পৃথিবীর প্রাকৃতিক শব্দ যেমন বাতাসের শব্দ, বজ্রপাত, সমুদ্রের ঢেউ, পাখির গান, তিমির ডাক এবং অন্যান্য পরিবেশগত শব্দ। রেকর্ডে ৫৫টি ভাষায় শুভেচ্ছা বার্তা রয়েছে, যার মধ্যে বাংলা ভাষায় বলা হয়েছে, "নমস্কার। বিশ্বে শান্তি হোক।"

মহাকাশে ভয়েজারের বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে, ভয়েজার ১ এবং ভয়েজার ২ উভয়ই ইন্টারস্টেলার স্পেসে রয়েছে, যা সৌরজগতের বাইরের অঞ্চল। ভয়েজার ১ পৃথিবী থেকে প্রায় ২৪.৮ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই মহাকাশযানগুলি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কিলোমিটার গতিতে মহাকাশের গভীরতার দিকে এগিয়ে চলেছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

বিজ্ঞানীরা জানেন যে, এই বার্তা কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর হাতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তবুও, মানবজাতি চিরকাল স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। এই রেকর্ড যদি কখনো কোনো ভিনগ্রহের প্রাণীর হাতে পৌঁছায়, তবে তারা জানতে পারবে যে, কোটি কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের একটি ক্ষুদ্র গ্রহে একদল প্রাণী বাস করত যারা ছিল কৌতুহলী, সৃষ্টিশীল এবং যারা মহাবিশ্বে নিজেদের গল্প বলে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছিল।


সম্পর্কিত প্রতিবেদনসমূহ



মন্তব্যসমূহ