পেহেলগাঁও হামলা: ২৬ পর্যটকের মৃত্যু, সাইফুল্লাহ কাসুরীর অস্বীকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

সাইফুল্লাহ কাসুরীর অস্বীকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

২২ এপ্রিল ২০২৫, মঙ্গলবার, জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগাঁওয়ের বৈসারণ উপত্যকায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন পর্যটক নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। এই হামলাটি ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট' (TRF), যা পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইয়েবার (LeT) একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত। 

হামলার পেছনের কারণ ও পরিকল্পনা

TRF দাবি করেছে, কাশ্মীর উপত্যকায় বহিরাগতদের বসতি স্থাপন এবং এর ফলে সৃষ্ট জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিরোধিতা করেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন লস্কর-ই-তইয়েবার সিনিয়র কমান্ডার সাইফুল্লাহ কাসুরী ওরফে সাইফুল্লাহ খালিদ। তিনি পাকিস্তানের পেশোয়ারে LeT-এর সদর দপ্তরের প্রধান এবং পূর্বে জামাত-উদ-দাওয়া (JuD)-এর সমন্বয় কমিটিতে কাজ করেছেন।

সাইফুল্লাহ কাসুরীর অস্বীকার

সাইফুল্লাহ কাসুরীর অস্বীকার

হামলার পর, সাইফুল্লাহ কাসুরী একটি ভিডিও বার্তায় হামলার সঙ্গে তার বা পাকিস্তানের কোনো সম্পর্ক অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "ভারত নিজেই এই নাটক সাজিয়েছে। পাকিস্তান বা তার কোনো সংগঠনের এর সঙ্গে কোনো যোগ নেই।" তিনি আরও দাবি করেন, ভারত পাকিস্তানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য এই হামলা পরিচালনা করেছে।

ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "ভারত প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেবে।" তিনি সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভারত সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস, ইন্দাস জল চুক্তি স্থগিত এবং আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধসহ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই হামলার পর, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তান সরকার হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে এবং ভারতের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। 

তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সাইফুল্লাহ কাসুরীর অস্বীকার
হামলার পর, জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) তদন্ত শুরু করেছে এবং তিনজন সন্দেহভাজনের স্কেচ প্রকাশ করেছে, যাদের মধ্যে দুইজন পাকিস্তানি নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। 

পেহেলগাঁও হামলা কাশ্মীর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এই হামলা শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। সাইফুল্লাহ কাসুরীর অস্বীকার এবং TRF-এর দায় স্বীকার—এই দুই বিপরীতমুখী বক্তব্যের মধ্যে সত্য উদঘাটন এখন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।


সম্পর্কিত ভিডিও:

Saifullah Kasuri: The Mastermind Behind Pahalgam Attack


সতর্কতা: এই প্রতিবেদনটি সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তী আপডেটের জন্য আমাদের সাইটে নজর রাখুন।

মন্তব্যসমূহ