বরগুনায় পারিবারিক কলহের জেরে একাধিক মামলা: বিচারহীনতার অভিযোগে পরিবারে অস্থিরতা​

বরগুনায় পারিবারিক কলহের জেরে একাধিক মামলা: বিচারহীনতার অভিযোগে পরিবারে অস্থিরতা

বরগুনায় পারিবারিক কলহের জেরে একাধিক মামলা: বিচারহীনতার অভিযোগে পরিবারে অস্থিরতা
বরগুনা জেলার পত্রকাটা থানার একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একাধিক নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার সম্মুখীন হয়েছে। পরিবারটি দাবি করেছে, এ মামলাগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা পারিবারিক কলহের জেরে দায়ের করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ শাহন ওরফে কুদ্দুস জানান, তাঁর চাচাতো বোন নাজমা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। নাজমা বেগম প্রথমে এক স্থানে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, পরে তাঁর বড় ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিবাহ করেন। এরপর তাঁদের দুই সন্তান জন্মগ্রহণ করে।

পরিবারের দাবি, বিদেশে কর্মরত দুই ভাইয়ের পাঠানোর জন্য পিতা আব্দুর রাজ্জাক জমি বন্ধক রেখে এবং ঋণ নিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। বিদেশে যাওয়ার পর, তাঁদের পিতার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের করা হয়, যা দীর্ঘ নয় বছর ধরে চলমান ছিল। মামলার কারণে পিতা আব্দুর রাজ্জাক, মেজো ভাই জামাল হোসেন এবং ছোট চাচা জেল খাটেন।

পরিবারটি অভিযোগ করেছে, মামলাগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য বা প্রমাণ নেই। এছাড়া, নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে চারটি বিবাহের অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁর ছোট বোন সালমার বিরুদ্ধেও একাধিক বিবাহ ও মামলার অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েছেন, কিন্তু কোনো সুরাহা পাননি। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, মামলাগুলোর কারণে পরিবারের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে, এবং তাঁদের পিতা স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, পরিবারটি ন্যায়বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।


উপসংহার:

বরগুনার পত্রকাটা থানার এই পরিবারের অভিজ্ঞতা পারিবারিক কলহের জেরে মিথ্যা মামলার শিকার হওয়ার একটি দৃষ্টান্ত। বিচারহীনতা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পরিবারটি চরম অস্থিরতায় ভুগছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যাতে নিরীহ পরিবারগুলো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয়।

মন্তব্যসমূহ